ছবিতে পিতাপুত্র ও অভিযোগে কপি
হাসান মাহমুদ জয় | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই শিশুদের নিয়ে স্কুল পরিচালনা এবং সেই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে শুভ্র সেন শর্মা ও তার ছেলে রাজ্য সেন শর্মার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানা, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ‘নিরন্তর ভালোবাসা’ নামে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের টার্গেট করে বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় ঘর নিয়ে স্কুলের কার্যক্রম শুরু করা হয়। কয়েক মাস কার্যক্রম পরিচালনার পর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে দাতা ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে অর্থ সংগ্রহের পর স্থান পরিবর্তনের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম শহরের পাওয়ার হাউস পাড়ায় সি.আর.সি স্কুল ও মক্তব অ্যান্ড ট্রাস্ট উন্নয়ন সমিতির একটি ঘর ২০২৪ সালের ৩ মার্চ পথশিশুদের পড়ানোর কথা বলে মাসিক এক হাজার টাকা ভাড়ায় নেন শুভ্র সেন শর্মা। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ মাসের চুক্তির বিপরীতে মাত্র তিন মাসের ৩ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করে বাকি ২৬ মাসের ২৬ হাজার টাকা বকেয়া রেখেই ঘরটি তালাবদ্ধ করে চলে যান তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৫ জুলাই দিবাগত রাতে ওই তালাবদ্ধ ঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি সিলিং ফ্যান চুরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। একই সঙ্গে পাশের সি.আর.সি অফিসে থাকা ১০টি সেলাই মেশিন নিয়েও চুরির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, বকেয়া ভাড়া ও অন্যান্য বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ায় মজনুজ্জামান মজনু পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে সহযোগী হিসেবে আবু সাঈদ মোল্লার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, শুভ্র সেন শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পর তার ছেলে রাজ্য সেন শর্মা সহযোগীদের নিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হেনস্তা করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়েও পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মজনুজ্জামান মজনু বলেন, “আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শুভ্র সেন শর্মার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, এ সংক্রান্ত অভিযোগ থানায় জমা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের নামে অর্থ সংগ্রহ, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং অভিযোগে উত্থাপিত অন্যান্য বিষয়গুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।
বার্তা বিভাগ | যোগফল অনলাইন নিউজ
আপনার মতামত লিখুন